"শরীয়তে আকিকার বিধান"

কীকা শব্দটি আরবী। এর শাব্দিক অর্থ হল, নবজাতকের মাথার জন্মলগ্নের চুল।





উইকিপিডিয়া মতেঃ- "আকিকা, আকীকা (عقيقة)

নবজাত শিশুর সাতদিন বয়সে মাথা মুড়িয়ে দেয়া, তার ওজনের সমপরিমাণ রৌপ্য দান করা এবং ছাগল কুরবানি করা।" (1)

আর ইসলামী শরীয়তে আকীকা বলতে বোঝায়, নবজাতকের জন্মের পর তার পক্ষ থেকে আল্লাহর নামে নির্দিষ্ট জন্তু যবেহ করা।

আকিকা ফরজ বা ওয়াজিব নয়; বরং সুন্নাত 

সহীহ বুখারীতে আকিকা সম্পর্কে বলা হয়েছেঃ-

وَقَالَ‎ ‎غَيْرُ‎ ‎وَاحِدٍ‎ ‎عَنْ‎ ‎عَاصِمٍ،‎ ‎وَهِشَامٍ،‎ ‎عَنْ‎ ‎حَفْصَةَ‎ ‎بِنْتِ‎ ‎سِيرِينَ،‎ ‎عَنِ‎ ‎الرَّبَابِ،‎ ‎عَنْ‎ ‎سَلْمَانَ،‎ ‎عَنِ‎ ‎النَّبِيِّ‎ ‎صلى‎ ‎الله‎ ‎عليه‎ ‎وسلم‏‎.‎‏‎ ‎وَرَوَاهُ‎ ‎يَزِيدُ‎ ‎بْنُ‎ ‎إِبْرَاهِيمَ‎ ‎عَنِ‎ ‎ابْنِ‎ ‎سِيرِينَ‎ ‎عَنْ‎ ‎سَلْمَانَ‎ ‎قَوْلَهُ‏‎.‎‏‎ ‎وَقَالَ‎ ‎أَصْبَغُ‎ ‎أَخْبَرَنِي‎ ‎ابْنُ‎ ‎وَهْبٍ‎ ‎عَنْ‎ ‎جَرِيرِ‎ ‎بْنِ‎ ‎حَازِمٍ‎ ‎عَنْ‎ ‎أَيُّوبَ‎ ‎السَّخْتِيَانِيِّ‎ ‎عَنْ‎ ‎مُحَمَّدِ‎ ‎بْنِ‎ ‎سِيرِينَ‎ ‎حَدَّثَنَا‎ ‎سَلْمَانُ‎ ‎بْنُ‎ ‎عَامِرٍ‎ ‎الضَّبِّيُّ‎ ‎قَالَ‎ ‎سَمِعْتُ‎ ‎رَسُولَ‎ ‎اللَّهِ‎ ‎صلى‎ ‎الله‎ ‎عليه‎ ‎وسلم‎ ‎يَقُولُ‎ ‎‏‎ "‎‏‎ ‎مَعَ‎ ‎الْغُلاَمِ‎ ‎عَقِيقَةٌ،‎ ‎فَأَهْرِيقُوا‎ ‎عَنْهُ‎ ‎دَمًا‎ ‎وَأَمِيطُوا‎ ‎عَنْهُ‎ ‎الأَذَى‎ ‎‏‎"‎‏‏‎.‎‏


‎সালমান ইবনু ‘আমির (রাঃ) ‎ থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ আমি রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে ‎বলতে শুনেছি যে, সন্তানের সঙ্গে ‘আকিকা সম্পর্কিত। ‎তার পক্ষ থেকে রক্ত প্রবাহিত (অর্থাৎ ‘আকিকার জন্তু যবেহ্‌) ‎কর এবং তার অশুচি (চুল, নখ ইত্যাদি) দূর করে দাও।(2)

 ‎

আকিকার নিয়ম সম্পর্কে সহীহ সুনানে নাসায়ী তে বর্ণিত আছে যেঃ-

أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ سُلَيْمَانَ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ قَالَ: حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ قَيْسٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ قَالَ: سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ الْعَقِيقَةِ فَقَالَ: «لَا يُحِبُّ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ الْعُقُوقَ»، وَكَأَنَّهُ كَرِهَ الِاسْمَ، قَالَ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّمَا نَسْأَلُكَ أَحَدُنَا يُولَدُ لَهُ، قَالَ: «مَنْ أَحَبَّ أَنْ يَنْسُكَ عَنْ وَلَدِهِ، فَلْيَنْسُكْ عَنْهُ عَنِ الْغُلَامِ شَاتَانِ مُكَافَأَتَانِ، وَعَنِ الْجَارِيَةِ شَاةٌ» قَالَ دَاوُدُ سَأَلْتُ زَيْدَ بْنَ أَسْلَمَ عَنِ الْمُكَافَأَتَانِ قَالَ: «الشَّاتَانِ الْمُشَبَّهَتَانِ تُذْبَحَانِ جَمِيعًا»


আমর ইব্‌ন শুআয়ব (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তাঁর পিতার মাধ্যমে, তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে আকীকা সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেনঃ আল্লাহ্‌ তা‘আলা মাতাপিতার অবাধ্যতাকে পছন্দ করেন না, যেন তিনি এই (আকীকা) [১] নামকে অপছন্দ করলেন ঐ ব্যক্তি আরয করলোঃ ইয়া রাসূলুল্লাহ্! আমি আপনার নিকট জিজ্ঞাসা করছি, কারো সন্তান হলে সন্তানের পক্ষ হতে যা যবেহ করা হয় সেই বিষয়ে। তিনি বললেনঃ যে ব্যক্তি স্বীয় সন্তানের পক্ষ হতে যবেহ করতে ইচ্ছে করে, সে যেন ছেলে সন্তানের পক্ষ হতে দু’টি বকরী যবেহ করে একই ধরনের এবং কন্যা সন্তানের পক্ষ হতে একটি বকরী যবেহ করে। রাবী দাউদ (রহঃ) বলেনঃ আমি যায়দ ইব্‌ন আসলাম (রহঃ)-এর নিকট জিজ্ঞাসা করলাম, এক প্রকার অর্থ কি? তিনি বললেনঃ দেখতে যেন একই প্রকার হয়, একত্রে যবেহ করা হয়।


ফুটনোটঃ
কেননা এরই যমধাতু হতে উৎপন্ন ‘উকুক’-এর অর্থ পিতাপাতার অবাধ্যতা করা। কিন্তু বহু হাদীসে রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কর্তৃক এ নামের ব্যবহার পাওয়া যায়। কাজেই বলতে হবে, এ অপছন্দ করার বিষয়টি রাবীর ধারনা। খুব সম্ভবত মহানবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ স্থলে পিতামাতার অবাধ্যতার কথাটি তুলেছেন প্রসঙ্গক্রমে, যেহেতু উভয় শব্দ একই ধাতু হতে উৎপন্ন হয় এবং বিশেষত এ কারনে যে, ‘আকীকা সাধারনত পিতামাতাই দিয়ে থাকে। (3)


আকিকা সপ্তম দিনে করা মোস্তাহাব।

হাদীস মতেঃ-

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى قَالَا: حَدَّثَنَا يَزِيدُ وَهُوَ ابْنُ زُرَيْعٍ، عَنْ سَعِيدٍ، أَنْبَأَنَا قَتَادَةُ، عَنْ الْحَسَنِ، عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «كُلُّ غُلَامٍ رَهِينٌ بِعَقِيقَتِهِ تُذْبَحُ عَنْهُ يَوْمَ سَابِعِهِ وَيُحْلَقُ رَأْسُهُ وَيُسَمَّى»


সামুরা ইব্‌ন জুনদুব (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ প্রত্যেক সন্তান স্বীয় আকীকার সাথে আবদ্ধ। তার পক্ষ হতে তা তার জন্মের সপ্তম দিনে যবেহ করতে হবে। সেদিন তার মাথা মুণ্ডন করতে হবে এবং তার নাম রাখতে হবে।(4)



আকীকার পশু সম্পর্কে সহীহ তিরমিজি তে বর্ণিত আছেঃ-

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ سَمُرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ الْغُلاَمُ مُرْتَهَنٌ بِعَقِيقَتِهِ يُذْبَحُ عَنْهُ يَوْمَ السَّابِعِ وَيُسَمَّى وَيُحْلَقُ رَأْسُهُ ‏"‏ ‏.‏
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْخَلاَّلُ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدَبٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ يَسْتَحِبُّونَ أَنْ يُذْبَحَ عَنِ الْغُلاَمِ الْعَقِيقَةُ يَوْمَ السَّابِعِ فَإِنْ لَمْ يَتَهَيَّأْ يَوْمَ السَّابِعِ فَيَوْمَ الرَّابِعِ عَشَرَ فَإِنْ لَمْ يَتَهَيَّأْ عُقَّ عَنْهُ يَوْمَ حَادٍ وَعِشْرِينَ وَقَالُوا لاَ يُجْزِئُ فِي الْعَقِيقَةِ مِنَ الشَّاةِ إِلاَّ مَا يُجْزِئُ فِي الأُضْحِيَةِ ‏.‏



সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ সকল শিশুই তার আকীকার সাথে বন্ধক (দায়বদ্ধ) অবস্থায় থাকে। জন্মগ্রহণ করার সপ্তম দিনে তার পক্ষে যবেহ করতে হবে, তার নাম রাখতে হবে এবং তার মাথা নেড়া করতে হবে।

সহীহ্, ইবনু মা-জাহ (৩১৬৫)


ফুটনোটঃ
আল-হাসান ইবনু আলী আল-খাল্লাল-ইয়াযীদ ইবনু হারূন হতে, তিনি সাঈদ ইবনু আবূ আরূবা হতে, তিনি কাতাদা হতে, তিনি আল হাসান হতে, তিনি সামুরা ইবনু জুনদাব (রাঃ) হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে এই সূত্রেও উপরে বর্ণিত হাদীসের মতো বর্ণিত হয়েছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ্ বলেছেন। এ হাদীস মোতাবিক অভিজ্ঞ আলিমগণ আমল করেছেন। তারা মনে করেন শিশু জন্মগ্রহণ করার সপ্তম দিনে তার পক্ষে আকীকা করাটা মুস্তাহাব, সপ্তম দিনে অক্ষম হলে চৌদ্দতম দিনে এবং সেই তারিখেও অক্ষম হলে একুশতম দিনে। তারা আরো বলেন, যে ধরনের বকরী কুরবানীর জন্য বৈধ সেই ধরনের বকরী আকীকার জন্যও বৈধ। (5)

রাসুলুল্লাহ সঃ নিজেই হাসান হোসাইনের আকিকা দিয়েছিলঃ-

أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَفْصِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ: حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ هُوَ ابْنُ طَهْمَانَ، عَنْ الْحَجَّاجِ بْنِ الْحَجَّاجِ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: «عَقَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ الْحَسَنِ وَالْحُسَيْنِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا بِكَبْشَيْنِ كَبْشَيْنِ»



ইব্‌ন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাসান এবং হুসায়নের আকীকায় দু’টি করে বকরী যবেহ করেন।(6)


আকীকা সপ্তম দিনে করার পর তার চুল মুন্ডন করতে হবে, এবং তার চুলের সমপরিমাণ রৌপ্য দান করতে হবে। এ ব্যাপারে তিরমিজি তে বর্ণিত আছেঃ-

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى الْقُطَعِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ الْحُسَيْنِ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، قَالَ عَقَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الْحَسَنِ بِشَاةٍ وَقَالَ ‏ "‏ يَا فَاطِمَةُ احْلِقِي رَأْسَهُ وَتَصَدَّقِي بِزِنَةِ شَعْرِهِ فِضَّةً ‏"‏ ‏.‏ قَالَ فَوَزَنَتْهُ فَكَانَ وَزْنُهُ دِرْهَمًا أَوْ بَعْضَ دِرْهَمٍ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ وَإِسْنَادُهُ لَيْسَ بِمُتَّصِلٍ ‏.‏ وَأَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْحُسَيْنِ لَمْ يُدْرِكْ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ ‏.‏


আলী ইবনু আবী তালিব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একটি বকরী দ্বারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাসানের আকীকা করেন এবং বলেনঃ হে ফাতিমা! তার মাথা নেড়া করে দাও এবং তার চুলের ওজনের অনুরূপ রূপা দান কর। তদানুযায়ী আমি তার চুল ওজন করলাম এবং তার ওজন এক দিরহাম বা তার কাছাকাছি হয়।

হাসান, ইরওয়া (১১৭৫)


ফুটনোটঃ
এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান গারীব বলেছেন। এর সনদ পরস্পর সংযুক্ত (মুত্তাসিল) নয়। বর্ণনাকারী আবূ জাফর মুহাম্মাদ ইবনু আলী ইবনুল হুসাইন (রহঃ) আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) -এর সাক্ষাত পাননি। (7)

কারো আকীকা করা না হলে বড় হয়ে নিজের আকীকা নিজেও করতে পারবে।

 হজরত আনাস রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবুওয়ত প্রাপ্তির পর নিজের আকীকা নিজে করেছেন।(8)

আকিকার গোশতের হুকুম:-

 এটি কোরবানির গোশতের মতোই। কাঁচা ও রান্না করা উভয়টিই বণ্টন করতে পারবে। সর্বস্তরের লোক তা খেতে পারবে। এমনকি নিজের মা-বাবা, নানা-নানি, ধনী-গরিব সবাই নিশ্চিন্তে আকিকার গোশত খেতে পারবে।(9)

আকিকার গোসত কুরবানীর গোসতের মতোই। পরিবারের সবাই খেতে পারবে। আত্মীয়দের দিতে পারবে। গরীবদের খাওয়াতে পারবে। কাঁচা ও রান্না করা উভয়ভাবে বিতরণ করতে পারবে। এর দ্বারা আনুষ্ঠানিক আপ্যায়নের ব্যবস্থাও করতে পারবে।(10)

এমনকি কেউ বড় হয়ে আকীকা করলে সে নিজেও আকীকার গোস্ত খেতে পারবে। তবে আকীকার গোস্তের এক-তৃতীয়াংশ গোস্ত গরিব-মিসকীনদের মাঝে বণ্টন করে দেয়া উত্তম। অবশিষ্ট দুই-তৃতীয়াংশ আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবদের খাওয়াতে পারবে।(11)

আকীকার পশুর সংখ্যাঃ-

নির্ভরযোগ্য মত অনুযায়ী ছেলেসন্তানের পক্ষ থেকে একই ধরনের দুটি বকরি এবং মেয়ের পক্ষ থেকে একটি বকরি আকিকা করা সুন্নাত।(12) হজরত উম্মে কুরজ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, ‘ছেলের জন্য এক ধরনের দুটি বকরি এবং মেয়ের জন্য একটি বকরি আকিকা করবে।(3) তবে ছেলের পক্ষ থেকে একটি বকরি আকিকা করলেও মুস্তাহাব আদায় হয়ে যাবে। যদিও দুটি করা উত্তম।(13)

 কোরবানির জন্য যেসব পশু উপযুক্ত, আকিকার ক্ষেত্রেও সে ধরনের পশু জবাই করার নিয়ম। অর্থাৎ ছাগল, ভেড়া, দুম্বা, গরু, মহিষ বা উট দ্বারা আকিকা করতে হবে। কোরবানির সময়ও (জিলহজ মাসের ১০, ১১ ও ১২ তারিখ) আকিকা করা যায়। কোরবানির পশুর মধ্যে গরু, মহিষ বা উটে পুত্রসন্তানের জন্য ২ ভাগ এবং মেয়েসন্তানের জন্য এক অংশের দ্বারা আকিকা করা শরিয়ত সম্মত এবং এসব বড় পশুর একটির মধ্যে একাধিকজনের আকিকা জায়েজ। মোটকথা, কোরবানির গরু, মহিষ ও উটে আকিকার নিয়তে শরীক হতে পারবে। এতে কোরবানি ও আকিকা দুটোই বৈধ হবে।(14)


তথ্যসুত্রঃ-

১▶https://bn.m.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%87%E0%A6%B8%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BF_%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B7%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%B7

২▶(আ.প্র. ৫০৬৬, ই.ফা. ৪৯৬৩)‎সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৫৪৭১
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস

3▶সুনানে আন-নাসায়ী, হাদিস নং ৪২১২
হাদিসের মান: হাসান সহিহ

4▶সুনানে আন-নাসায়ী, হাদিস নং ৪২২০
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস

5▶জামে' আত-তিরমিজি, হাদিস নং ১৫২২
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস

6▶সুনানে আন-নাসায়ী, হাদিস নং ৪২১৯
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস

7▶জামে' আত-তিরমিজি, হাদিস নং ১৫১৯
হাদিসের মান: হাসান হাদিস

8▶(প্রাগুক্ত ১/৫২৯; মাজমাউয যাওয়াইদ, হাদীস : ৬২০৩; আলমুফাসসাল ফী আহকামিল আকীকা, ড. হুসামুদ্দীন ইবনে মূসা, জামেয়াতুল  কূদস, পৃ. ১৪২)


9▶(ফাতাওয়ায়ে শামি : ৬/৩৩৬)

10▶[রদ্দুল মুহতার: ৬/৩৩৫]

11▶(কিফয়াতুল মুফতি : ৮ নং খন্ড)।

12▶(ফাতাওয়ায়ে শামি : ৬/৩৩৬)

13▶(রদ্দুল মুহতার : ৫/২১৩, আল মাউসুআতুল ফিকহিয়্যাহ : ৩০/২৭৭)

14▶(বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১০, তাহতাবী আলাদ্দুর ৪/১৬৬, রদ্দুল মুহতার ৬/৩৬২)

===জাহিদুল ইসলাম জিহাদ===

Comments